মূল সংবাদে যান
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাটোরে ৪২৯ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে কার্যক্রম

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
নাটোরে ৪২৯ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে কার্যক্রম

নাটোরে ৭৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪২৯টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। ফলে এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন শিক্ষকরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। দ্রুত শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় ৫৮ শতাংশেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে সাধারণত জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজের বড় একটি অংশ সামলাতে হচ্ছে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের। এর পাশাপাশি তাদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষেও পাঠদান করতে হচ্ছে। দাপ্তরিক প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের বাইরে যেতে হলে তাদের নির্ধারিত ক্লাসও অন্য শিক্ষকদের নিতে হচ্ছে। ফলে একজনের অতিরিক্ত দায়িত্বের প্রভাব পড়ছে পুরো শিক্ষক দলের ওপর।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিপংকর কুমার দত্ত বলেন, “ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করা দরকার।”
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আক্তার বলেন, “দাপ্তরিক কাজে বাইরে গেলে নিজের ক্লাস অন্য শিক্ষককে নিতে হয়। এতে অন্য শিক্ষকদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে।”

সালমা সুলতানা নামে আরেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, “প্রধান শিক্ষক না থাকায় একজনের কাজ অন্য শিক্ষকদের ভাগ করে নিতে হচ্ছে। এতে সবাই বাড়তি চাপে পড়ছেন।”

সহকারী শিক্ষক মৌসুমি জেসমিন বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বের কারণে তার ক্লাসও অন্যদের নিতে হচ্ছে। এতে পাঠদানে চাপ বাড়ছে।”

শিক্ষকদের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন অভিভাবকরাও। অভিভাবক লুবনা 
ইয়াসমিন বলেন, “শিক্ষকরা যদি প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাসও নেন, তাহলে তাদের ওপর বাড়তি চাপ থাকবেই। আমরা চাই দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক।”

নাটোরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান বলেন, “জেলার ৭৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪২৯টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। জরুরি ভিত্তিতে এসব পদ পূরণ করা প্রয়োজন।”

শিক্ষকদের ওপর প্রশাসনিক চাপ কমিয়ে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের দাবি সংশ্লিষ্টদের।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তা বরখাস্ত

পরের সংবাদ

তন্ত্র-মন্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রবাসীদের কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ‘জিন...

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।